example 2

#দেহরক্ষী
#পর্ব_৫
#মিষ্টির_আব্বু

কুহু বাড়ি এসে তে অবাক……
কুহু দেখতে পায় ছোট্ট বিড়ালছানাটি কুহুদের ফ্লাটের পাশের ফ্লাটের দরজার সামনে ছোটা ছোটি করছে….
কুহুতো আনন্দে আত্মহারা হয়ে ছুটে গিয়ে বিড়ালছানাটিকে কোলে তুলে নেয়……


এরপর বাধে এক বিপত্তি….
কোথা থেকে বাচ্চাছেলেটি ছুটে এসে কুহুর কোল থেকে বিড়াল ছানাটিকে নিয়ে নেয়….
এমনি কুহুও কেদে দেয়…..
কুহু তো কেদে কেটে শেষ কিন্তু 
ছেলেটি কিছুতেই দেবে না…..
কুহুর লাল টুকটুকে গাল…..
টুকটুকে গোলাপি ঠোট আর ধবধবে সাদ পোশাকে একদম পরী পরী লাগে ছেলেটির কাছে…..
ছেলেটি আর কেউ নয় অভি……
অভি তখন সবে ক্লাস সেভেন থেকে এইটে উঠেছে…..
কুহু কেদে কেদে অভিকে বলে….
:শোনো না তুমি আমাকে ঐ বাবু বিড়ালটা দেবে???
:কেনো দেবো??
:দাও না প্লিজ
:আচ্ছা আমি তোমাকে তোমার বাবু বিড়ালটা দিলে তুমি আমাকে কি দেবে???
:(এমমমমমম) আমি তোমাকে বিয়ে করবো……এবার দাওনা!!!
:প্রোমিস!!!
:হুম্ম এবার দাও
:এই নাও
কুহু আর অভির কথা শুনে সবাই হেসে ওঠে…..
এই দুষ্টি মিষ্টি ঝগড়া দিয়ে শুরু হয় অভি কুহুর বন্ধুত্ব……
এভাবে প্রায় কেটে যায় দুইবছর…..
এরই মধ্যে অভির বাবা পরিবার নিয়ে বিদেশে চলে যায়….
যেদিন অভি চলো যায় 
যাবার আগে কুহুকে বলে….
:পরী তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করো…
আমি বড় হয়ে তোমায় বিয়ে করবো…
সেটাই ছিলো তাদের শেষ দেখা এর পর কুহুর বাবা মারা যায়….
বাবার জমানো টাকা দিয়ে মা মেয়ের বেশ ভালোই চলছিলো….
এরই মধ্যে কুহুর মা অসুস্থ হয়
কুহু ও প্রয়োজনের তাগিদে একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকুরি পায়…..
এরপর তো সবটায় জানা…..
কুহু আজও অপেক্ষায় আছে তার রাজকুমারের জন্য….
বর্তমানে….
আজ সকাল থেকে অভির মনটা একদম ভালো নেই….. 
বার বার পরীর কথা মনে পরছে…..
বিদেশে গিয়েও বেশ ভালোয় যোগাযোগ চলছিলো
হটাৎ একদিন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়…..
যোগাযোগটা অবশ্য কুহুদের তরফ থেকেয় বন্ধ হয়ে যায় কারনটা অভির কাছে আজও অজানা……
প্রায় ১২ বছর পর যখন ফিরে এলো তখন জানতে পারলো কুহুদের ঠিকানা বদলে গেছে…..
ছোটবেলায় অভি একবার কুহুর সাথে কুহুদের গ্রামের বাড়িতে গেছিলো…
অনেক কষ্টে সেখানে গিয়ে জানতে পারে
কুহুর বাবা মারা যায় অনেক আগেয়….
তারপর সাধারনত যা হয় সব সম্পতি কুহুর চাচারা কেড়ে নিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়……
তারপর তাদের খোজ আর কেউ জানে না……
ফিরে এসে অভি আর্মি স্পেশান ফোর্সে জয়েন করে….
তাকে রণির কেসের বাপারে দায়িত্ব দেওয়া হয়….
পুলিশ ফোর্স অনেক চেষ্টা করেও রণির কিছুই করতে পারেনি……
প্রমানের অভাবে রণি বার বার ছাড়া পেয়ে যায়….
তাই প্রথমে প্রমান যোগার করতে হবে 
পরে রণিকে ধরতে হবে
এই জন্যই অভিকে এই ছদ্মবেশ ধরতে হয়েছে…..
মেয়েটির প্রতি অভির এইটানের কারন এখনো অভির কাছে অজানা….
বোধয়
পরীর নামের সাথে মেয়েটির নামের মিল থাকায় এই বিশেষ টান…….
যদিও ব্যাখ্যাটা নিজের মতোই দড় করিয়েছে অভি কেবল মনটাকে শান্ত কারার জন্য….
নিজেকে শান্ত করতে হবে…..
রাতে অভি একটা স্বপ্ন দেখে…..
স্বপ্নটা এমন…
:একই নদীর দুই পড়ে দুইজন বসে আছে….. 
এপাড়ে অভি ও পারে লাল টুকটুকে জামা পড়ে পরী…..
(জামাটা অভিই কুহুকে দিয়েছিলো ওর জন্মদিনে)
অভির খুব ইচ্ছে করছে ওকে ছুয়ে দিতে কিন্তু পারছে….না।
হটাৎই বাহিরে থেকে খুব চেচামেচির আওয়াজ আসছে রণি খুব চেচামেচি করছে…..
কারনটা দেখার জন্য অভি বাহিরে যেতেই দেখে রণি একটা বন্দুক অভির দিকে তাক করে দাড়িয়ে আছে……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *